ছবিঃ সংগৃহীত
শিক্ষার পরিবেশের উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষার ব্যয় কমানো এবং পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর দাবিতে আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় বিক্ষোভ করেছেন জেন-জির শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবারের এ বিক্ষোভ একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভবন লক্ষ্য করে ইট ও কংক্রিটের টুকরা ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিক্ষোভের আয়োজকেরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, উচ্চশিক্ষার খরচ, আর্থিক সহায়তা এবং পড়াশোনা শেষে চাকরি পাওয়ার সুযোগ নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধানের দাবিতেই তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। কয়েকজন বিক্ষোভকারী বলেন, সমাজে বৈষম্য এবং সরকারের প্রতি ক্ষোভ থেকেও এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে।
বিক্ষোভকারী লুলজেতা কোলা বলেন, আলবেনিয়ায় পরিবর্তন প্রয়োজন এবং পুরো ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার দরকার। তাঁর ভাষায়, ‘আলবেনিয়ার এখন বিপ্লব দরকার। পরিবর্তন দরকার। পুরো ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন দরকার। কারণ, এভাবে আর চলতে পারে না।’
দেশটিতে সামাজিক অবিচার গভীর বলে মন্তব্য করেন কোলা। তাঁর মতে, ধনী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে ব্যবধানও অনেক বেশি।
আলবেনিয়ার এই বিক্ষোভ এমন এক সময়ে হলো, যখন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাব্যবস্থার নানা সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করছেন। ফ্রান্সেও কয়েক সপ্তাহ ধরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন। শিক্ষক নিয়োগ বাড়ানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা উন্নত করার দাবিতে তাঁরা বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ বন্ধ করে দিচ্ছেন।
ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ভবনগুলোর অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ অবস্থা তুলে ধরতে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ফ্রান্সজুড়ে এই আন্দোলন শুরু হয়। এরপর আন্দোলনকারীরা মিছিল করেছেন, শত শত বিদ্যালয় অবরোধ করেছেন এবং বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন।